২১ শে ফেব্রুয়ারি কবিতা:  আজ আমি শেয়ার করবো ২১ শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে ২১ শে ফেব্রুয়ারি কবিতা। ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়। ১৪ নভেম্বর ১৯, ইউনেস্কো এটি অনুমোদন করে। এই দিবসটি উদযাপনের উদ্দেশ্য হ'ল বিশ্বে ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং বহুভাষিকতা প্রচার করা।

১৯৫২ সাল থেকে বাংলাদেশে ইউনস্কোর দ্বারা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার সাথে সাথে বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন দিবস আন্তর্জাতিক অনুমোদন লাভ করে। এই দিনটি বাংলাদেশের জাতীয় ছুটি। ২০০৮ সালে জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক ভাষা বছর হিসাবে ঘোষণা করে, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসটির গুরুত্ব পুনর্বার ঘোষণা করেছে।

এই দিবসটি ১৯৫২ সাল থেকে প্রতিবছর জাতীয় শহীদ দিবস হিসাবে পালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে, ঢ়াকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে, ২১শে ফেব্রুয়ারি  রাত ১২:০০ এ প্রথমে রাষ্ট্রপতি এবং তারপরে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, উপাচার্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ঢ়াকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ঢ়াকার বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। । এই মুহুর্তে, আমার ভাইয়ের রক্তাক্ত একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলে যেতে পারি গানটির শোকার্ত সুরটি বাজতে থাকে?

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। বেতার, টেলিভিশন এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন শহীদ দিবসের তাত্পর্য তুলে ধরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। দেশের সংবাদপত্রগুলিও বিশেষ পরিপূরক প্রকাশ করে। বাংলা একাডেমি ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে ঢ়াকায় একুশে বইমেলার আয়োজন করে। 

 

২১ শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কবিতা

২১ শে ফেব্রুয়ারি কবিতা:

 

একুশের কবিতা
আল মাহমুদ

 

ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ
দুপুর বেলার অক্ত
বৃষ্টি নামে, বৃষ্টি কোথায় ?
বরকতের রক্ত।

হাজার যুগের সূর্যতাপে
জ্বলবে এমন লাল যে,
সেই লোহিতেই লাল হয়েছে
কৃষ্ণচূড়ার ডাল যে !

প্রভাতফেরীর মিছিল যাবে
ছড়াও ফুলের বন্যা
বিষাদগীতি গাইছে পথে
তিতুমীরের কন্যা।

চিনতে না কি সোনার ছেলে
ক্ষুদিরামকে চিনতে ?
রুদ্ধশ্বাসে প্রাণ দিলো যে
মুক্ত বাতাস কিনতে ?

পাহাড়তলীর মরণ চূড়ায়
ঝাঁপ দিল যে অগ্নি,
ফেব্রুয়ারির শোকের বসন
পরলো তারই ভগ্নী।

প্রভাতফেরী, প্রভাতফেরী
আমায় নেবে সঙ্গে,
বাংলা আমার বচন, আমি
জন্মেছি এই বঙ্গে।

 

  উনিশে মে আর একুশে ফেব্রুয়ারি
অমিতাভ দাশগুপ্ত



বুকের রক্ত মুখে তুলে যারা মরে
ওপারে ঢাকায় এপারের শিলচরে
তারা ভালোবাসা-বাংলাভাষার জুড়ি—
উনিশে মে আর একুশে ফেব্রুয়ারি।

সিঁদুর কুড়িয়ে নেওয়া যায় এক আলো
প্রাণের পুণ্যে হয়ে ওঠে জমকালো
সে-আলোয় দেয় মারের সাগর পাড়ি
উনিশে মে আর একুশে ফেব্রুয়ারি।

সে-আলো টলে না মৃত্যুর কালো ঝড়ে
তর্জনি তুলে জেগে থাকে ঘরে ঘরে,
দুলিয়ে গলায় তাজা বুলেটের মালা
পার হয়ে শত শ্মশান ও কারবালা
হাজার মুখের মিছুলে দিয়েছে পাড়ি
উনিশে মে আর একুশে ফেব্রুয়ারি।


বন্দী-শিবির থেকে
কবি শামসুর রাহমান

 


ঈর্ষাতুর নই, তবু আমি
তোমাদের আজ বড়ো ঈর্ষা করি | তোমরা সুন্দর
জামা পরো, পার্কের বেঞ্চিতে বসে আলাপ জমাও,
কখনো সেজন্য নয় | ভালো খাওদাও
ফুর্তি করো সবান্ধব, সেজন্যেও নয়  |

বন্ধুরা তোমরা যারা কবি,

স্বাধীন দেশের কবি, তাদের সৌভাগ্যে
আমি বড়ো ঈর্ষান্বিত আজ |
যখন যা খুশি
মনের মতন শব্দ কী সহজে করো ব্যবহার
তোমরা সবাই |
যখন যে-শব্দ চাও, এসে গেলে সাজাও পয়ারে,
কখনো অমিত্রাক্ষরে, ক্ষিপ্র মাত্রাবৃত্তে কখনো-বা  |
সেসব কবিতাবলী যেন রাজহাঁস,
দৃপ্ত ভঙ্গিমায় মানুষের
অত্যন্ত নিকটে যায়, কুড়ায় আদর
অথচ এ দেশে আমি আজ দমবন্ধ
এ বন্দী-শিবিরে
মাথা খুঁড়ে মড়লেও পারি না করতে উচ্চারণ
মনের মতন শব্দ কোনো |
মনের মতন সব কবিতা লেখার
অধিকার ওরা
করেছে হরণ |
প্রকাশ্য রাস্তায় যদি তারস্বরে চাঁদ ফুল পাখি
এমন কি ‘নারী’ ইত্যাকার শব্দাবলী
করি উচ্চারণ, কেউ করবে না বারণ কখনো  |
কিন্তু কিছু শব্দকে করেছে
বেআইনী ওরা
ভয়ানক বিস্ফোরক ভেবে
স্বাধীনতা নামক শব্দটি
ভরাট গলায় দীপ্ত উচ্চারণ ক’রে বারবার
তৃপ্তি পেতে চাই | শহরের আনাচে কানাচে
প্রতিটি রাস্তায়
অলিতে গলিতে
রঙিন সাইনবোর্ডে, প্রত্যেক বাড়িতে
স্বাধীনতা নামক শব্দটি
লিখে দিতে চাই
বিশাল অক্ষরে
স্বাধীনতা শব্দ এত প্রিয় যে আমার
কখনো জানি নি আগে | উঁচিয়ে বন্দুক
স্বাধীনতা, বাংলা দেশ—- এই মতো শব্দ থেকে ওরা
আমাকে বিচ্ছিন্ন ক’রে রাখছে সর্বদা  |
অথচ জানে না ওরা কেউ
গাছের পাতায়, ফুটপাতে
পাখির পালকে কিংবা নারীর দু-চোখে
পথের ধুলোয়,
বস্তির দুরন্ত ছেলেটার
হাতের মুঠোয়
সর্বদাই দেখি জ্বলে স্বাধীনতা নামক শব্দটি |


আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস কবিতা:


একুশে ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশ সহ সকল বাংলাভাষী দেশের জন্য এক গৌরবময় দিন। এটি শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবেও পরিচিত। এটি বাঙালির ভাষা আন্দোলনের করুণ এবং গৌরবময় স্মৃতির দিন হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে।

১৯৫২ সালের এই দিনে, পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষাকে বাঙালি করার দাবিতে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি গুলি চালিয়ে কিছু তরুণ শহীদ হন। এর মধ্যে অন্যতম হলেন রফিক, জব্বার, শফিউল, সালাম, বরকতসহ আরও অনেকে। এ কারণেই এই দিনটি শহীদ দিবস হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে।


আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি :


কানাডার ভ্যানকুভারে বসবাসরত দুই বাঙালি রফিকুল ইসলাম ও আবদুস সালাম ১৯৯৮ সালে জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল কফি আনানকে আর্জি জানালেন যে, ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে ঘোষণা করা হোক। চিঠিটি হাসান ফেরদৌসের নজরে আসে, যিনি তৎকালীন মহাসচিবের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ছিলেন।

২০ শে জানুয়ারী, ১৯৯৮, তিনি রফিককে অনুরোধ করেছিলেন অনুরূপ প্রস্তাবের জন্য জাতিসংঘের অন্য একটি সদস্য রাষ্ট্রের কাছ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার। পরে রফিক আবদুস সালামকে সাথে নিয়ে "মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ লাভার্স অফ দ্য ওয়ার্ল্ড" নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। এটিতে একটি ইংরেজি-স্পিকার, একটি জার্মান-ভাষী, একটি ক্যান্টোনিজ-ভাষী, একজন কচি-স্পিকার সদস্য ছিল।

তারা আবারও "এ গ্রুপ অফ মাদার জিভ অফ দ্য ওয়ার্ল্ড" এর পক্ষে কোফি আনানকে একটি চিঠি লিখেছিল এবং চিঠির অনুলিপি ইউএনও-তে কানাডার রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফওলারের কাছেও প্রেরণ করা হয়েছিল।

১৯৯৯ সালে তারা জোসেফের সাথে এবং পরে ইউনেস্কোর আন্না মারিয়ার সাথে সাক্ষাত করেছিলেন, তিনি তাদের প্রস্তাবটি পাঁচ সদস্য দেশ কানাডা, ভারত, হাঙ্গেরি, ফিনল্যান্ড এবং বাংলাদেশকে আনার পরামর্শ দিয়েছিলেন। বিভিন্ন বাংলাদেশি কর্মকর্তা তখন ২৯ টি দেশকে এই প্রস্তাবটি সমর্থন করার জন্য অনুরোধ করার জন্য কাজ করেছিলেন।

১৮৮টি দেশের সমর্থন নিয়ে ১৯৯৯ সালের ১ নভেম্বর ইউনেস্কো প্যারিস সম্মেলনে এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছিল এবং একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছিল এবং ২০ শে ফেব্রুয়ারি ২০০০ সাল থেকে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হচ্ছে ।

জাতিসংঘ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫ তম অধিবেশনে প্রতি বছর ২১ শে ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার থেকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করবে। - এই বিষয়ে একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে পাস করা হয়েছিল। বাংলাদেশ সাধারণ অধিবেশনের ৬৫তম তম অধিবেশনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল। মে মাসে, জাতিসংঘের তথ্য সম্পর্কিত ১১৩ সদস্যের কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাবটি পাস করে।

Post a Comment

Previous Post Next Post