আঠারো বছর বয়স কবিতা : আজ শেয়ার রবো সুকান্ত ভট্টাচার্যের আঠারো বছর বয়স কবিতা (ছাড়পত্র) । কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য তাঁর 'আঠারো বছর' কবিতায় কৈশোরের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। আঠারো বছর বয়সে কোনও ব্যক্তির দেহে পরিবর্তনের সাথে সাথে মনের পরিবর্তনও ঘটে। অদম্য মানসিক শক্তি অমিত তেজকে নতুন করে জীবন সরবরাহ করে।

প্রাণবন্ত যুবকেরা বিশ্বকে তাদের হাতে পেতে চায়। চারপাশের সমস্ত কিছুই তাদের সংবেদনশীল মনকে তীব্রভাবে নাড়া দেয়। চিন্তা-চেতনা সূর্যের আলোর মতো একটি উজ্জ্বল আলোকসজ্জা রয়েছে। এ কারণেই কবি এই বয়সে জীবনের বোধকে তীব্রতা ও নিবিড়তার সাথে তুলনা করেছেন।

'আঠারো বছর বয়সী' কবিতায় কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য তারুণ্যের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। এবং সিগমন্ড ফ্রয়েড এই যুগের মেজাজগত বৈশিষ্ট্যের চেয়ে শারীরিক দিকটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

'আঠারো বছর বয়সী' কবিতায় এ জাতীয় মনোভাব প্রকাশ করা হয়নি। কবির মতে মানুষ এই বয়সে দেশ ও মানবতার স্বার্থে এগিয়েছে। অনেক দুঃসাহসী স্বপ্ন, কল্পনা এবং উদ্যোগ এই যুগের তরুণদের মনকে ঘিরে।

 

আঠারো বছর বয়স কবিতা সুকান্ত ভট্টাচার্য


আঠারো বছর বয়স
- সুকান্ত ভট্টাচার্য---ছাড়পত্র


আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ
র্স্পধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি,
আঠারো বছর বয়সেই অহরহ
বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি।

আঠারো বছর বয়সের নেই ভয়
পদাঘাতে চায় ভাঙতে পাথর বাধা,
এ বয়সে কেউ মাথা নোয়াবার নয়-
আঠারো বছর বয়স জানে না কাঁদা।

এ বয়স জানে রক্তদানের পুণ্য
বাষ্পের বেগে স্টিমারের মতো চলে,
প্রাণ দেওয়া-নেওয়া ঝুলিটা থাকে না শূন্য
সঁপে আত্মাকে শপথের কোলাহলে।

আঠরো বছর বয়স ভয়ঙ্কর
তাজা তাজা প্রাণে অসহ্য যন্ত্রণা,
এ বয়সে প্রাণ তীব্র আর প্রখর
এ বয়সে কানে আসে কত মন্ত্রণা।

আঠারো বছর বয়স যে দুর্বার
পথে প্রান্তরে ছোটায় বহু তুফান,
দুর্যোগে হাল ঠিক মতো রাখা ভার
ক্ষত-বিক্ষত হয় সহস্র প্রাণ।

আঠারো বছর বয়সে আঘাত আসে
অবিশ্র্রান্ত; একে একে হয় জড়ো,
এ বয়স কালো লক্ষ দীর্ঘশ্বাসে
এ বয়স কাঁপে বেদনায় থরোথরো।

তব আঠারোর শুনেছি জয়ধ্বনি,
এ বয়স বাঁচে দুর্যোগে আর ঝড়ে,
বিপদের মুখে এ বয়স অগ্রণী
এ বয়স তবু নতুন কিছু তো করে।

এ বয়স জেনো ভীরু, কাপুরুষ নয়
পথ চলতে এ বয়স যায় না থেমে,
এ বয়সে তাই নেই কোনো সংশয়-
এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে।।


ছাড়পত্র হ'ল সুকান্ত ভট্টাচার্যর ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত বাংলা কাব্যগ্রন্থ। এই বইয়ের কবিতাগুলি ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৭ সালের মধ্যে রচিত হয়েছিল। সুকান্ত মাত্র একুশ বছর বয়সে মারা যাওয়ার কয়েকদিন আগে এই বইয়ের কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল।

সুকান্ত যখন অসুস্থতার কারণে শয্যাশায়ী ছিলেন, তখন তাঁর সাহিত্য সাধনা সেই মুহুর্তে বাধাগ্রস্ত হয়নি। তিনি যখন অসুস্থ অবস্থায় তাঁর বাড়ির সিঁড়ি দেখেন, তখন তিনি শোষণকারী শ্রেণি এবং শোষিত শ্রেণীর প্রতীক হিসাবে "সিঁড়ি" লিখেছিলেন। এভাবে তিনি এই কাব্যগ্রন্থে "চিল", "সিগারেট" এবং "উদ্ভিদ" লিখেছিলেন। যা দিয়ে কবিতাটির এই বই "অব্যাহতি"

আরও দেখুন >>  সোনার তরী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Post a Comment

Previous Post Next Post