হেলাল হাফিজ কবিতা: আজ আমি শেয়ার করবো কবি হেলাল হাফিজের কবিতা। হেলাল হাফিজ একজন বাংলাদেশী কবি। তিনি তাঁর প্রজন্মের কবিদের সত্যিকারের প্রতিনিধি হিসাবে বিবেচিত হন যখন একটি যুগে নির্দিষ্ট কিছু সৃজনশীল বৈশিষ্ট্য রয়েছে যখন তার জাতি এবং পাড়ার দেশগুলি বিশেষত রাজনীতির অঙ্গনে নাটকীয় রূপান্তর প্রত্যক্ষ করেছিল। তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরষ্কার (২০১৩) জিতেছিলেন।

হাফিজ কখনই নিজেকে কোনও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত করেননি। তবে মানের প্রশ্নে সংবেদনশীল মানুষ হিসাবে হাজির হাফিজ সাহেব যে জলে আগুন জলে প্রকাশের পর বছরের পর বছর ধরে সাহিত্য অঙ্গন থেকে একটি স্ব-নির্বাসন পছন্দ করেছিলেন। তিনি তার এই নীরবতার কথা উল্লেখ করেছিলেন যে জনপ্রিয়তা হারানোর ভয়ের অনুভূতির ফলাফল হিসাবে তিনি তাঁর কাছে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে গিয়েছিলেন।

হেলাল হাফিজ অবশ্য ধীরে ধীরে তাঁর কবিটা একাত্তুর (কবিতা সত্তর এক) নিয়ে সম্প্রতি তাঁর সাহিত্য কার্যক্রম আবার শুরু করলেন যাতে আবার সাহিত্যের অঙ্গনে তাঁর দুর্দান্ত উপস্থিতি দৃশ্যমান হয় এবং কয়েক মাসের মধ্যে তাঁর তৃতীয় বইটি বইয়ের স্টলে হিট হওয়ার কথা রয়েছে।

পেশায় এক সাংবাদিক হাফিজ অবশেষে গত চার দশক ধরে বেশ কয়েকটি পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করার সময় তাঁর পেশাদার আবাসস্থল হিসাবে খবরের কাগজের সাহিত্য বিভাগকে পেয়েছিলেন।

কিন্তু সংবাদপত্রের শিল্পে অস্থিরতা তাকে চূড়ান্ত অসুবিধাগুলির মুখোমুখি করে বেশ কয়েকবার চাকরি থেকেও ছুঁড়ে ফেলেছিল। জুয়ার ক্ষেত্রে তার ভাগ্য তাকে নিকটতম বৃত্তে একজন দুর্দান্ত জুয়াড়ি হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেছিল এবং তার একটি সংবাদপত্রের সাক্ষাত্কারে হাফিজ অনবদ্যভাবে তার বেকারত্বের সময় বলেছিল, জুয়া খেলা তার সময়ের আয়ের প্রধান আয়ের উত্স হিসাবে উপস্থিত হয়েছিল।

ভূমির প্রতি ভালবাসা এবং প্রেমিকের প্রতি নিষ্ঠার দ্বন্দ্ব তার কবিতাগুলিতে স্পষ্টভাবে দেখা যায় তবে হাফিজ নিজেকে একটি কোমল প্রেমিকা এবং বিদ্রোহী দেশপ্রেমিক হিসাবে উপস্থাপনের একটি উপায় খুঁজে পেয়েছিলেন যেহেতু তিনি লিখেছেন “বরং আজকে আমরা জাহিদুর / সুমন বোশেখের গান পছন্দ করি হৃদয় থেকে, উভয় জীবনে আনুন / আপনি কি জানেন, হেলেন।

 


কবি হেলাল হাফিজের কবিতা : 

 

 ফেরীঅলা

কষ্ট নেবে কষ্ট
হরেক রকম কষ্ট আছে
কষ্ট নেবে কষ্ট !
লাল কষ্ট নীল কষ্ট কাঁচা হলুদ রঙের কষ্ট
পাথর চাপা সবুজ ঘাসের সাদা কষ্ট,
আলোর মাঝে কালোর কষ্ট
‘মালটি-কালার’ কষ্ট আছে
কষ্ট নেবে কষ্ট ।
ঘরের কষ্ট পরেরর কষ্ট পাখি এবং পাতার কষ্ট
দাড়ির কষ্ট
চোখের বুকের নখের কষ্ট,
একটি মানুষ খুব নীরবে নষ্ট হবার কষ্ট আছে
কষ্ট নেবে কষ্ট ।
প্রেমের কষ্ট ঘৃণার কষ্ট নদী এবং নারীর কষ্ট
অনাদর ও অবহেলার তুমুল কষ্ট,
ভুল রমণী ভালোবাসার
ভুল নেতাদের জনসভার
হাইড্রোজনে দুইটি জোকার নষ্ট হবার কষ্ট আছে
কষ্ট নেবে কষ্ট ।
দিনের কষ্ট রাতের কষ্ট
পথের এবং পায়ের কষ্ট
অসাধারণ করুণ চারু কষ্ট ফেরীঅলারকষ্ট
কষ্ট নেবে কষ্ট ।
আর কে দেবে আমি ছাড়া
আসল শোভন কষ্ট,
কার পুড়েছে জন্ম থেকে কপাল এমন
আমার মত ক’জনের আর
সব হয়েছে নষ্ট,
আর কে দেবে আমার মতো হৃষ্টপুষ্ট কষ্ট…


অমীমাংসিত সন্ধি

তোমাকে শুধু তোমাকে চাই, পাবো?
পাই বা না পাই এক জীবনে তোমার কাছেই যাবো।

ইচ্ছে হলে দেখতে দিয়ো, দেখো
হাত বাড়িয়ে হাত চেয়েছি রাখতে দিয়ো, রেখো।

অপূর্ণতায় নষ্টে-কষ্টে গেলো
এতোটা কাল, আজকে যদি মাতাল জোয়ার এলো
এসো দু’জন প্লাবিত হই প্রেমে
নিরাভরণ সখ্য হবে যুগল-স্নানে নেমে।

থাকবো ব্যাকুল শর্তবিহীন নত
পরস্পরের বুকের কাছে মুগ্ধ অভিভূত।



বাম হাত তোমাকে দিলাম


এই নাও বাম হাত তোমাকে দিলাম।
একটু আদর করে রেখো, চৈত্রে বোশেখে
খরা আর ঝড়ের রাত্রিতে মমতায় সেবা ও শুশ্রূষা দিয়ে
বুকে রেখো, ঢেকে রেখো, দুর্দিনে যত্ন নিও
সুখী হবে তোমার সন্তান।

এই নাও বাম হাত তোমাকে দিলাম।
ও বড়ো কষ্টের হাত, দেখো দেখো অনাদরে কী রকম
শীর্ণ হয়েছে, ভুল আদরের ক্ষত সারা গায়ে
লেপ্টে রয়েছে, পোড়া কপালের হাত
মাটির মমতা চেয়ে
সম্পদের সুষম বন্টন চেয়ে
মানুষের ত্রাণ চেয়ে
জন্মাবধি কপাল পুড়েছে,
ওকে আর আহত করো না, কষ্ট দিও না
ওর সুখে সুখী হবে তোমার সন্তান।

কিছুই পারি নি দিতে, এই নাও বাম হাত তোমাকে দিলাম।

অশ্লীল সভ্যতা

নিউট্রন বোমা বোঝ
মানুষ বোঝ না!



  নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়

এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
মিছিলের সব হাত
কন্ঠ
পা এক নয় ।
সেখানে সংসারী থাকে, সংসার বিরাগী থাকে,
কেউ আসে রাজপথে সাজাতে সংসার ।
কেউ আসে জ্বালিয়ে বা জ্বালাতে সংসার
শাশ্বত শান্তির যারা তারাও যুদ্ধে আসে
অবশ্য আসতে হয় মাঝে মধ্যে
অস্তিত্বের প্রগাঢ় আহ্বানে,
কেউ আবার যুদ্ধবাজ হয়ে যায় মোহরের প্রিয় প্রলোভনে
কোনো কোনো প্রেম আছে প্রেমিককে খুনী হতে হয় ।
যদি কেউ ভালোবেসে খুনী হতে চান
তাই হয়ে যান
উৎকৃষ্ট সময় কিন্তু আজ বয়ে যায় ।
এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময় ।

 


কবি হেলাল হাফিজের কবিতা তালিকা


  1.     নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়
  2.     নিরাশ্রয় পাঁচটি আঙুল
  3.     দুঃসময়ে আমার যৌবন
  4.     অস্ত্র সমর্পণ
  5.     অগ্নুৎসব
  6.     বেদনা বোনের মতো
  7.     ইচ্ছে ছিলো
  8.     প্রতিমা
  9.     অন্যরকম সংসার
  10.     নিখুঁত স্ট্রাটেজি
  11.     আমার সকল আয়োজন
  12.     হিরণবালা
  13.     দুঃখের আরেক নাম
  14.     প্রত্যাবর্তন
  15.     তীর্থ
  16.     অনির্ণীত নারী
  17.     অশ্লীল সভ্যতা
  18.     কবিতার কসম খেলাম
  19.     পরানের পাখি
  20.     বাম হাত তোমাকে দিলাম
  21.     উপসংহার
  22.     শামুক
  23.     আমার কী এসে যাবে
  24.     ইদানীং জীবন যাপন
  25.     পৃথক পাহাড়
  26.     অহংকার
  27.     কোমল কংক্রিট
  28.     নাম ভূমিকায়
  29.     সম্প্রদান
  30.     একটি পতাকা পেলে
  31.     মানবানল
  32.     যার যেখানে জায়গা
  33.     কবি ও কবিতা
  34.     ফেরিঅলা
  35.     উৎসর্গ
  36.     যেভাবে সে এলো
  37.     রাডার
  38.     যাতায়াত
  39.     যুগল জীবনী
  40.     লাবণ্যের লতা
  41.     তোমাকেই চাই
  42.     ভূমিহীন কৃষকের গান
  43.     কবুতর
  44.     নেত্রকোণা
  45.     তুমি ডাক দিলে
  46.     হিজলতলীর সুখ
  47.     রাখাল
  48.     ব্যবধান
  49.     কে
  50.     অমীমাংসিত
  51.     সন্ধি
  52.     ক্যাকটাস
  53.     তৃষ্ণা
  54.     হৃদয়ের ঋণ
  55.     প্রস্থান
  56.     ঘরোয়া
  57.     রাজনীতি
  58.     ডাকাত

 

আরও পড়ুন  >>   ২১ শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কবিতা

 

Post a Comment

Previous Post Next Post